হাদীসের সুনান গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সুনান আবূ দাউদ। ইমাম আবূ দাউদ (রহ) সুনিপুণভাবে ফিকহী মাসআলা অনুসারে এই হাদীসগ্রন্থটিকে সাজিয়েছেন। তাইতো ফিক্বাহবিদগণ বলেন : “একজন মুজতাহিদের পক্ষে ফিক্বাহর মাসআলা বের করতে আল্লাহর কিতাব কুরআন মাজীদের পরে এই সুনান আবূ দাউদই যথেষ্ট। সুনান আবূ দাউদের অনেকগুলো অনুবাদ বাজারে রয়েছে। সেগুলো কোনটিই তাহক্বীককৃত ( সহীহ ও যইফ আলাদকৃত ) নয়। আল্লামা আলবানী একাডেমীকৃত এই গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ। বইটির তাহক্বীক নেয়া হয়েছে শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ)-এর তাহক্বীক হতে।
এই অনুবাদটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো :
এটির হাদীসে সহীহ ও যইফ তাহক্বীককৃত করা হয়েছে যা বাজারের অন্যগুলোতে বিদ্যমান নেই।
হাদীসের তাহক্বীকের ক্ষেত্রে শুধু শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহ)-এর বর্ণনা নয়, সেই সাথে অন্য মুহাদ্দিসীনে কেরাম যেমন আহমাদ শাকির, শুআইব আরনাউত্ব, ইমাম যাহাবী, হাফেয ইবনে হাজার আসাক্বালানী, ড. মুস্তফা আযমী প্রমুখ এর তাহক্বীক ও মন্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদীসগুলো অন্য যে হাদীসগ্রন্থে রয়েছে সেগুলোও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যান্য হাদীস গ্রন্থের শুধু হাদীসগুলো নয় বরং সেই সাথে অধ্যায়ের নম্বর ও শিরোনামও বর্ণনা করা হয়েছে।
হাদীস সহীহ ও যইফ এর ক্ষেত্রে শুধু উল্লেখ করা হয় নি। সেই সাথে কেনো সহীহ বা কেনো যইফ, কোন কোন রাবী দুর্বল বা মিথ্যাবাদী বা শাহেদ (সমার্থক) হাদীস রয়েছে কিনা তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদীস বা হাদীসের অনুচ্ছেদ থেকে আমরা কি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি তা উল্লেখ করা হয়েছে। যা অনন্য। এই বিষয়টি আমাদের হাদীস হতে উপকৃত হতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।
প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরুর পূর্বে এ সংক্রান্ত মাসআলাগুলো সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হয়েছে। যা আমাদের সেই বিষয়গুলো থেকে বিশদ ধারণা পেতে সাহায্য করবে। যেমন উযূর পূর্বে উযূর মাসআলা, গোসলের পূর্বে গোসলের মাসআলা, তায়াম্মুমের মাসআলা প্রভৃতি।
সুনান আবূ দাউদের কোন হাদীস মিশকাত শরীফে থাকলে তা নম্বর সহ উল্লেখ করা হয়েছে। যা মাদরাসায় পড়ুয়া ছাত্রদের সহযোগীতা করবে ।
বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ মাসআলার ক্ষেত্রে কিভাবে সঠিক বিষয়টি জানা যায় বা কোন বিষয়টি সুন্নাহর কাছাকাছি সে বিষয় বিস্তারিত জানার জন্য টীকা সহ বিস্তারিত আলোচনা রাখা হয়েছে। শুধু একটি মতের হাদীসগুলো নয় সব মতের হাদীসগুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। এবং নিরপেক্ষভাবে সহীহ সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক তা আলোচনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণ ও ইমামদের মতামত কি তাও আলোচনা করা হয়েছে।
“যা জানা জরুরি” শিরোনামে হাদীসের বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু লেখা হাদীসের সহীহ ও যইফ এর নীতিমালা বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দিবে ।
সুলাইমান বিন আ‘শআছ ইবনে ইসহাক আল-আজদী আস-সিজিস্তানি
লেখক সম্পর্কে
তিনি হলেন সুলাইমান বিন আ‘শআছ ইবনে ইসহাক আল-আজদী আস-সিজিস্তানি। যিনি হাদীসের বিশিষ্ট ইমাম ছিলেন। তিনি ২০২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইমাম বুখারীর সাথে ইমাম আহমদ ইবনে হাম¦লের অধীনে হাদীস অধ্যায়ন করেছিলেন এবং হাদীসের পরবর্তী অনেক জগত বিখ্যাত মুহাদ্দিস যেমন ইমাম তিরমিযী ও ইমাম নাসায়ীর মত মহান মুহাদ্দিসগণকে হাদীস শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামের বিশুদ্ধ হাদীস সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন ।
তার গ্রন্থের প্রতিটি হাদীসকে কুরআনের সাথে সামঞ্জস্য করার জন্য পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং দীর্ঘ যাচাই বাচাইয়ের পর তার হাদীসগুলো কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যশীল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। আবূ দাঊদ শরীফ মুসলিম বিশ্বের সর্বজন স্বীকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠ হাদীস বিশারদ দ্বারা যাচাই বাচাই করার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম এর সুন্নাহর সবচেয়ে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত লাভ করেছে। তবে কিছু দুবর্ল হাদীসও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম আবূ দাঊদ ৫,০০,০০০ হাদীস সংগ্রহ করলেও তিনি তার আস সুনান গ্রন্থে ৪,৮০০ হাদীস সংকলন করেছিলেন, যা তিনি তৎকালীন বাগদাদ এবং অন্যন্য প্রধান শহরে পড়িয়েছিলেন।
ইমাম আবূ দাঊদ (র.) জীবনের শেষ চার বছর বসরার কাটিয়ে ৭৩ বছর হায়াত লাভ করে ১৬-ই শাওয়াল ২৭৫ হিজরিতে জুমার দিন ইন্তেকাল করেন।
ড. আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ
হাদীস পাবলিকেশন্স