ইশকুলের এক বাচ্চাকে পর্ণ দেখা অবস্থায় পেয়ে বড্ড হতচকিত হয়েছিলাম। একেবারে চোখ কপালে উঠে গিয়েছিল আমার! আসলে এর জন্যে বাচ্চাটা যত-না দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী ওর অভিভাবকরা; যারা স্লেট-পেন্সিলের বদলে মুঠোফোন তুলে দিয়েছে ওর হাতে।
অধিকাংশ অভিভাবকই বিনোদনের নামে ভিডিও গেইমস, কার্টুন কিংবা অ্যানিমেশান মুভি তুলে দেন বাচ্চাদের হাতে। তারা হয়তো জানেনও না, এগুলো বিনোদনের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। বিকারগ্রস্ত করে তুলে শিশুদের। নিয়ে যায় এক অজানা অন্ধকারে। ওসব ছাইপাঁশ তুলে না দিয়ে যদি ঈমান জাগানিয়া কোনো বস্তু তুলে দিতাম শিশুদের হাতে, তবে হয়তো সমাজটাই পাল্টে যেত। বদলে যেত আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
আলহামদুলিল্লাহ, প্রিয় ভাই আলী আব্দুল্লাহ বাচ্চাদের দেওয়ার মতো সুন্দর একটি উপহার নিয়ে এসেছেন। অবশ্যি বইটি এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টামাত্র। এটি হয়তো সব জঞ্জাল দূর করতে পারবে না, কিন্তু আমরা চাই—এর মাধ্যমে খুলে যাবে চিন্তার দিগন্ত। দূর হবে সব কালিমা। সুবাসিত হবে বিষাক্ত পবন। সে পবনে শিশুরা নিশ্বাস নেবে প্রাণ খুলে।
সত্যায়ন প্রকাশন
দুটো জিনিস নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য রেখে গেছেন-কুরআন এবং সুন্নাহ। দুনিয়ার যত মতবাদ, তত্ত্ব কিংবা আদর্শই সামনে আসুক, কুরআন আর হাদীসের মাপকাঠিতে তা যদি ইয়ত্তীর্ণ না হতে পারে, তাহলে তা দ্বিতীয় চিন্তা ব্যতীতই পরিত্যাজ্য। কুরআন নাযিল হয়েছে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে, কিন্তু কুরআনের প্রাসঙ্গিকতা সকল যুগ, কাল আর সময়-ব্যাপী। ওহির জ্ঞান সমাজে ছড়িয়ে দিতে দরকার জ্ঞানের বিকাশ আর সেই কাজে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং প্রাচীন ধারা হলো-বই। বইয়ের মাধ্যমে একটা সভ্যতাকে গড়া যায়, পরিবর্তন করে দেওয়া যায় সময়ের স্রোতকেও। ওহির আলোর মাঝেই যে সত্যিকারের মুক্তি এবং সেই জ্ঞান যে সমস্ত যুগে সমানভাগে প্রাসঙ্গিক-ব্যক্তি, সমাজসহ সকল পরিমণ্ডলে সেই আলোই যে একমাত্র সমাধান- সেই যোগসূত্রকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে সত্যায়ন প্রকাশনের উন্মেষ। সত্যায়ন প্রকাশন আলো ফেরি করে-ওহির আলো।