20% ছাড়
আল্লাহ তা'আলার সুউচ্চ নামসমূহ কেবল অক্ষরের বিন্যাস নয়, বরং তা অবিনশ্বর সত্যের একেকটি জ্যোতিষ্ক। এই গ্রন্থের পাতায় পাতায় আমরা সেই মহাসত্তার পরিচয়ের যে অনুসন্ধান করেছি, তা মূলত এক অপার্থিব নূরের সাগরে অবগাহন মাত্র। আসমাউল হুসনার প্রতিটি নামের অভ্যন্তরে প্রবহমান রয়েছে মহান রবের এক একটি বিশেষ গুণ, যা মহাবিশ্বের প্রতিটি ধূলিকণা থেকে শুরু করে সুদূর গ্যালাক্সি পর্যন্ত তাঁরই সার্বভৌমত্বের সাক্ষ্য ঘোষণা করছে।
আল্লাহ তা'আলার সুমহান নাম ও গুণাবলির এই সুনিবিড় আলোচনা কেবল কিছু শব্দের সমষ্টি কিংবা তাত্ত্বিক কোনো জ্ঞান নয়; বরং এটি হলো স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির আত্মিক সেতুবন্ধন। আসমাউল হুসনার প্রতিটি নামের গভীরে লুকিয়ে আছে পরম সত্যের একেকটি ঝরনাধারা, যা মুমিনের শুল্ক হৃদয়কে সজীব করে এবং তার বিশ্বাসের বুনিয়াদকে করে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ়।
আমরা যদি 'আল-খালিক' নামের গভীরতা বুঝি, তবে আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি ধূলিকণা সিজদাবনত হয়। আমরা যখন 'আর-রাজজাক'-এর উপর পূর্ণ আস্থা রাখি, তখন আমাদের দুশ্চিন্তার মেঘ কেটে গিয়ে প্রশান্তির সূর্য উদিত হয়। আর 'আল-গাফফার'-এর দয়ার দরিয়া আমাদের শেখায় যে, পাপের অন্ধকার যত গভীরই হোক, তাঁর ক্ষমার আলো তার চেয়েও বহুগুণ বিস্তৃত।
পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহর নামসমূহ জানার মূল সার্থকতা কেবল এগুলো মুখস্থ করার মধ্যে নয়, বরং এই গুণাবলির রঙে নিজের জীবনকে রাঙিয়ে তোলার মাঝে। যাঁর জ্ঞান অসীম, সেই 'আল-আলিম'-এর সামনে দাঁড়ানোর আগে আমাদের প্রতিটি কাজ যেন তাঁর সন্তুষ্টির মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়। যিনি 'আস-সামীয়' এবং 'আল-বাসীর', তিনি আমাদের প্রতিটি গোপন কথা শুনছেন এবং প্রতিটি সূক্ষ্ম কাজ দেখছেন- এই গভীর অনুভূতিই একজন মানুষকে প্রকৃত মুমিন ও মুত্তশ নিষেধ, যা ইনসাফপূর্ণ।
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ দিন!