ইমাম ইবনে মাজাহ (রহ.)-এর জীবনী
পূর্ণ নাম: আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ আর-রাবয়ী আল-কাযভিনী (রহ.)
আপনার পাঠানো নামে "মুহাম্মাদ" অংশটি বাদ পড়েছিল। তাঁর প্রসিদ্ধ নামে এটি আছে, তাই আমি যোগ করে দিয়েছি।
জন্ম ও বংশ পরিচয়: তিনি ২০৯ হিজরি (৮২৪ খ্রিষ্টাব্দ) সনে ইরানের প্রসিদ্ধ শহর কাযভীনে জন্মগ্রহণ করেন। এই শহরের নামেই তাঁকে "আল-কাযভিনী" বলা হয়। "রাবয়ী" নামটি তাঁর বংশ বা গোত্রের দিকে সম্পর্কিত। "মাজাহ" শব্দটি তাঁর পিতা ইয়াযীদের উপাধি, এমনটাই প্রসিদ্ধ মত। সেই সূত্রে তিনি "ইবনে মাজাহ" নামে পরিচিত।
শিক্ষা ও ইলমের সফর: ছোটবেলা থেকেই তিনি হাদীস শেখায় মনোযোগী ছিলেন। ২১৫ হিজরির পর থেকে নিজ শহরের উস্তাদদের কাছ থেকে হাদীস শিখতে শুরু করেন। এরপর ইলমের সন্ধানে অনেক অঞ্চলে সফর করেন, যার মধ্যে রয়েছে রায়, বসরা, কুফা, বাগদাদ, মক্কা, মদীনা, শাম ও মিসর।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উস্তাদগণ:
ছাত্রবৃন্দ: তাঁর কাছ থেকে যাঁরা হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে ইবরাহীম আল-কাত্তান, সুলাইমান ইবনে ইয়াযীদ আল-কাযভিনী ও মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-আবহারী (রহ.)।
গুণ ও বৈশিষ্ট্য:
হাদীসের হাফেজ ও হাদীসের ইলমে গভীর দক্ষতাসম্পন্ন
হাদীস ও ইতিহাসে পারদর্শী, তাফসীরেও অবদান রেখেছেন
জ্ঞান ও আমানতদারিতার জন্য সমকালীন আলেমদের কাছে সম্মানিত ছিলেন
রচনাবলী:
সুনানে ইবনে মাজাহ: তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, যা সিহাহ সিত্তার অন্তর্ভুক্ত। এটি ফিকহী অধ্যায়ের ধারায় সাজানো। এতে প্রায় ৪ হাজার হাদীস আছে, যার অনেকগুলো অন্য পাঁচটি গ্রন্থে নেই।
তাফসীরুল কুরআন: কুরআনের তাফসীরমূলক গ্রন্থ, যা বর্তমানে সহজলভ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়
তারীখে কাযভীন: কাযভীন শহরের ইতিহাসগ্রন্থ, যা বর্তমানে সহজলভ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়
সুনানে ইবনে মাজাহর মর্যাদা: শুরুতে সিহাহ সিত্তার ছয় নম্বর গ্রন্থ হিসেবে "মুয়াত্তা মালিক" নাকি "সুনানে দারিমী" ধরা হবে, এ নিয়ে মতভেদ ছিল। পরবর্তী আলেমদের মধ্যে ইবনে মাজাহকে ষষ্ঠ গ্রন্থ ধরার মতটিই প্রসিদ্ধ হয়। বিশুদ্ধতার বিচারে এটি অন্য পাঁচটি গ্রন্থের তুলনায় নিম্নস্তরের ধরা হয়, কারণ এতে কিছু দুর্বল রাবীর হাদীসও আছে।
ইন্তেকাল: ২৭৩ হিজরি (৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দ) সনের রমযান মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন। প্রসিদ্ধ মতে তারিখ ২২ রমযান। তাঁকে কাযভীনেই দাফন করা হয়।