5% ছাড়
প্রত্যেক কাজের শুরুতে নিয়ত তথা উদ্দেশ্য ঠিক করে নেওয়া খুবই জরুরি। সঠিক লক্ষ্য স্থির থাকলে আশা করা যায়, আপনি গন্তব্য পৌঁছতে পারবেন। নবীদের কাহিনি জানার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্(১) আল্লাহর আদেশ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি আল্লাহ আদেশ করেছেন, ‘আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনি’-সুতরাং, আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহকে আদেশ করা হয়েছে, যেন তিনি উম্মতের কাছে অবশ্যই এসব কাহিনি বর্ণনা করেন। আর রাসূলের উম্মত হিসেবে এই দায়িত্ব আমাদের ওপরেও বর্তায় যে আমরা পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনি জানব এবং অন্যদের কাছে বর্ণনা করব। আর আল্লাহর আদেশ পালন করা হলো ইবাদত। তাই আল্লাহর আদেশ পালন ও ইবাদতের নিয়তে নবীদের কাহিনি জানতে হ(২) তাফাক্কুর
আল্লাহ তাআলা চান যেন নবীদের এ কাহিনিগুলো নিয়ে আমরা গভীরভাবে ভাবি, চিন্তা করি। আল্লাহ বলছেন,
‘আপনি বিবৃত করুন এসব কাহিনি, যেন তারা চিন্তা করে।’
কুরআনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশে পূর্ববর্তী নবীদের বৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে। নিছক বিনোদন বা গল্পের খাতিরে নয়, এসব কাহিনি বর্ণিত হয়েছে জীবনে বাস্তবিক শিক্ষা গ্রহণ ও প্রয়োগের জন্য, অনুধাবন করার জন্য, গভীরভাবে চিন্তা করার জনবীদের ঘটনায় রয়েছে ‘ইবরাহ’ তথা ‘সমঝদার ব্যক্তিদের জন্য প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়।’ এই ঘটনাগুলো এতই সমৃদ্ধ যে বারবার আলোচনা করলেও শিক্ষণীয় উপাদানের ঘাটতি হয় না। আল্লাহ বলে‘তাদের কাহিনিতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়, এটা কোনো মনগড়া কথা নয়, বরং যারা বিশ্বাস স্থাপন করে তাদের জন্যে পূর্বেকার কালামের সমর্থন, প্রত্যেক বস্তুর বিবরণ, হিদায়াত ও রহমত।’ (সূরা ইউসুফ, ১২: (৩) নবীরা হলেন ‘রোল মডেল’
একমাত্র নবীরাই মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। আল্লাহ বলেন, ‘তারা এমন, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন।’ সমকালীন প্রেক্ষাপটে, এই কারণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নবীগণ হলেন সেসব ব্যক্তি, যাদেরকে আল্লাহ নিজে পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর রাসূলকেও নির্দেশ দিয়েছেন তাঁদেরকে অনুসরণ করার জন্য, তাঁদের দেখানো পথে চলার জন্য। কেননা তাঁরাই শ্রেষ্ঠ। আমাদের প্রত্যেকের জন্য ‘রোল মডেল’ বা অনুকরণীয় আদর্শ প্রয়োজন। মানুষ স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। শৈশব ও তরুণ বয়সে এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ আছে, হোক সেটা ভালো কিংবা মন্দ। চেতন-অবচেতন মনে আমরা সবাই কাউকে না কাউকে অনুসরণ করি। এটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য। আজকে মুসলিমদের সামনে নবী-রাসূলদের আদর্শ, রাসূলুল্লাহ ও সাহাবীদের জীবনী তুলে ধরা হচ্ছে না বলে তারা বিভিন্ন বিভ্রান্ত ব্যক্তিদের মনগড়া মত, পথ ও আদর্শের অনুসার(৪) নবীদের ভালোবাসা
কোনো অচেনা মানুষকে কেউ ভালোবাসতে পারে না। কাউকে না চিনলে, না জানলে তাকে ভালোবাসা যায় না। আজকে সব মুসলিমরাই দাবি করে তারা নবীদের ভালোবাসে। কিন্তু তাদের অনেকেই নবীদের জীবন সম্পর্কে কিছু টুকরো ঘটনা বাদে তেমন কিছুই জানেন না। অথচ নবীদের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা ও সম্মান ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে ঠাঁই পায় না, যতক্ষণ না তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও আদর্শ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। তাঁরা কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কাটিয়েছেন, এগুলো জানলে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। নবীদের ভালোবাসা ঈমানের অঙ(৫) অন্তরে দৃঢ়তা অর্জন, নসিহত ও স্মরণিকা গ্রহণআল্লাহ তাআলা নিজেই এসব কাহিনির উদ্দেশ্য বর্ণনা করে বলেছেন,
‘আর আমি রাসূলদের ওইসব বৃত্তান্ত আপনাকে বর্ণনা করছি, যা দ্বারা আপনার অন্তরকে মজবুত করি। আর এভাবে আপনার নিকট এসেছে মহাসত্য এবং ঈমানদারদের জন্য এসেছে নসিহত ও স্মরণিকা।’ (সূরা হুদ, ১১: ১২০)
দ্বীনের ওপর চলা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। এটি কেবল বিশেষ কিছুদিন, সপ্তাহ বা মাসের প্যাকেজ নয়। আমৃত্যু ইসলামের ওপর টিকে থাকার জন্য পর্যাপ্ত রসদ থাকা চাই। আল্লাহ তাআলা কুরআনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে নবীদের কাহিনি বর্ণনা করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীদের চিত্তের দৃঢ়তা ও মনোবল বৃদ্ধি করেছেন। পূর্বের নবীদের বৃত্তান্ত, নিজ সম্প্রদায়ের কাফিরদের সাথে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, কষ্ট-নির্যাতন সহ্য করা আর পরিশেষে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় অর্জন, কাফিরদের অপদস্থ হবার বৃত্তান্ত ইত্যাদি আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উপদেশ ও স্মরণিকা প্রদান করে। এগুলো মুমিনদের জন্য সুসংবাদ ও কাফিরদের জন্য সতর্কবার্তা।
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ দিন!