বর্তমান যুগ তথ্যের প্রাচুর্যের যুগ হলেও এটি মনোযোগী পাঠের যুগ নয়। ডিজিটাল তথ্যের এই ভিড়ে আমরা ক্রমশ ভাসাভাসি পাঠে অভ্যস্ত হয়ে উঠছি, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের সমাজেও ফলে বই পড়ার প্রকৃত প্রবণতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অথচ একটি জ্ঞানভিত্তিক জাতি হিসেবে মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয় ও শ্রেষ্ঠত্ব গড়ে উঠেছিল 'ইকরা' বা 'পড়ো' আহ্বানের মধ্য দিয়ে। এই বাস্তবতায় শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ রচিত সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এ রচনাটি আমার নজরে আসে। বইপাঠের গুরুত্ব ও সঠিক পাঠশৈলী গঠন থেকে শুরু করে ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাহিত্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়ে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
গ্রন্থটি কেবল বইপাঠের উপকারিতা আলোচনা করেনি; বরং একজন মুসলিম কীভাবে সচেতন, সমালোচনামনস্ক ও দায়িত্বশীল পাঠক হয়ে উঠতে পারে- তার একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছে এতে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পাঠক যদি মনোযোগ সহকারে গ্রন্থটি পড়েন, তাহলে তার অন্তরে বইয়ের প্রতি নতুন আগ্রহ ও অনুরাগ সৃষ্টি হবে। বইপাঠকে তিনি আর কেবল অবসর বিনোদন হিসেবে দেখবেন না; বরং এটিকে ইবাদতের অংশ ও জ্ঞানচর্চার অপরিহার্য উপায় হিসেবে গ্রহণ মনোযোগী পাঠক হওয়ার কৌশল করবেন। ইনশাআল্লাহ, এই গ্রন্থটি পাঠকের অন্তরে এমন এক প্রেরণা জাগাবে, যা তাকে নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
আমি আশা করি, এই গ্রন্থটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সচেতন অভিভাবকদের জন্য বিশেষভাবে ফলপ্রসূ হবে।
শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ
ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী একাধারে একজন গবেষক, শিক্ষাবিদ, ইসলামিক স্কলার ও লেখক, অন্যদিকে তিনি একজন দা‘ঈ ইলাল্লাহ ও স্বনামধন্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। ইসলামী গবেষণা, ইসলাম প্রচার ও টিভি/ইউটিউব চ্যানেলে আলোচনার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন।
২০০৪ সাল থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন টিভিতে তিনি ইসলামিক আলোচনা, প্রশ্নোত্তর সেশন ও উপস্থাপনায় অবদান রেখে আসছেন। দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও লেকচার সেশনে এবং বহু আন্তর্জাতিক ইসলামিক সেন্টার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে তিনি জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করেছেন।
তিনি বাংলাভাষা-ভাষীদের মধ্যে বিশুদ্ধ ও বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান ও শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে তাইবাহ একাডেমি, ইমাম বুখারী ট্রাস্ট ও কুল্লিয়াতুল কুরআনিল কারীম ওয়াদ-দিরাসাত আল-ইসলামিয়াহ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী ১৯৮৮ সালে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরী‘আহ অনুষদে ভর্তি হন এবং অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে সেখান থেকে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী প্রথম বাংলাদেশী।
দারুল কারার পাবলিকেশন্স