যুদ্ধকালীন সংকটে প্রতিটি দেশ যেভাবে তার নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে, ফিতনার ঘনঘটা দেখা দিলে সূরা কাহফও মুমিনদেরকে ঠিক সেভাবেই সুরক্ষা দেয়। বাতলে দেয় ফিতনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঠিক পথ ও পন্থা।
সূরা কাহফ ঈমানকে শক্তিশালী ও পূর্ণ করার পাশাপাশি সংরক্ষণের উপায়ও বাতলে দেয়। এই সূরাতে মানুষের মৌলিক শক্তিমত্তার তিনটি শাখা (ইলম, অর্থ-সম্পদ এবং ক্ষমতা ও রাজত্ব) তুলে ধরা হয়েছে। এটা এমন ইলম যা সৎপথে পরিচালনা করে, এমন সম্পদ যা সৎপথে চলতে সহায়ক হয় আর এমন রাজত্ব যা সৎপথের অভিযাত্রাকে নিরাপদ ও সংরক্ষিত রাখে। কারণ, দ্বীনের ওপর টিকে থাকতে এসবের কোনো বিকল্প নেই। সত্যি বলতে শুধু ব্যক্তিমানুষ না, গোটা একটি সভ্যতার সাফল্যও মূলত এই নিয়ামকগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
মানব সভ্যতার শৌর্যবীর্য ও শক্তিমত্তার প্রধান এই তিন উপলক্ষই আবার নিদারুণ দুর্বিপাক আর পরীক্ষার ক্ষেত্র তথা ফিতনার উর্বর ভূমি। মুমিনমাত্রই পার্থিব জীবনে নানা বিপদাপদের আঘাত আর শত্রুপক্ষের বিষাক্ত দুরভিসন্ধির শিকার হয়ে থাকে। পাশাপাশি নিজের নানাবিধ দুর্বলতা, হতাশা আর অবসাদ তো রয়েছেই।
জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এঁটে বসা ফিতনার এসব বজ্র আঁটুনি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো ওহির আলোকশক্তিকে আঁকড়ে ধরা। অর্থাৎ কুরআনের নূরানি শক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠা। আর তা রয়েছে সূরা কাহফে। এটি আপনাকে ফিতনার ঘনঘটা থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে সক্ষম। পাঠক, বক্ষ্যমাণ বইটিতে আপনি খুঁজে পাবেন সূরা কাহফের সেই মুক্তির মশাল, যার সাহায্যে মুক্তি পাবেন যাবতীয় ফিতনা থেকে।
সন্দীপন প্রকাশন লিমিটেড
মক্কার কাফিররা চক্রান্ত করেছিল। কাউকে নবিজির কাছে আসতে দিত না, তাঁর কথা কাউকে শুনতে দিত না, তাঁর নামে প্রোপাগান্ডা ছড়াত। জাদুকর, পাগল, জিনে ধরা, আরও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে মানুষকে তাঁর কাছে ভিড়তে দিত না। কিন্তু এগুলোই তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে ধরা দিত। কাফিরদের এসব প্রোপাগান্ডা শুনে কিছু মানুষ নবিজির কথা শোনার জন্য উলটো আগ্রহী হয়ে উঠত। আর নবিজির মুখ থেকে কুরআনের বাণী শুনে তৎক্ষণাৎ ঈমানের ঘোষণা দিয়ে দিত। যুগে যুগে ইবলিসের দোসররা সত্যের দীপ্ত শিখা নিভিয়ে দেবার জন্য চেষ্টার কমতি করেনি। পূর্বসূরিদের মতো বর্তমানের অন্ধকারের পথযাত্রীরাও পিছিয়ে নেই তাতে। মুসলিম জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দেউলিয়া করে সত্যের আলো নিভিয়ে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারাও। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনে গেঁথে দিচ্ছে তাদের ইসলামবিদ্বেষের বিষবাষ্প। আল্লাহ তাআলা এই সাহিত্যকেই তাদের জন্য বুমেরাং করে দিলেন। এক ঝাঁক তরুণ প্রাণ সাহিত্যের মাধ্যমেই সত্যের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করল। সত্যের দীপ্ত শিখা জ্বালাবার শপথ নিয়ে সেই কাফেলায় যুক্ত হলো সন্দীপন। আত্ম—উন্নয়নমূলক, অনুপ্রেরণামূলক, ইতিহাস ও সংশয় নিরসন ইত্যাদি সামসময়িক বিভিন্ন টপিকসহ আমরা কাজ করে যাচ্ছি কুরআন, হাদীস, তাফসির ও সালাফদের বিভিন্ন খিদমত বাংলাভাষী মুসলিমদের হাতে পৌঁছে দিতে। পরিবার ও সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কিত জীবনঘনিষ্ঠ বই নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি আমরা। শিশুতোষ সাহিত্য নিয়ে সন্দীপনের রয়েছে অনন্য পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা। বাংলাভাষী মুসলিমদের কল্যাণে সন্দীপন প্রকাশন—এর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। প্রিয় পাঠক, সত্যের দীপ্ত শিখা জ্বালাবার এই সফরে স্বাগত আপনাকেও। সন্দীপনের সাথেই থাকুন