কুরআন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এর সৌন্দর্য এতটাই অনুপম যে, তার অনুরূপ কোনো গ্রন্থ আজ অবধি কেউ রচনা করতে পারেনি, অনাগত দিনেও পারবে না। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আরবি না-জানা বা আরবি জানলেও কুরআনের ভাষা-অলঙ্কার সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়ন না করা একজন বংলাভাষী পাঠকের কাছে আজীবন অধরাই থেকে যায়। তিনি সারাজীবন শুধু শুনেই যান যে, কুরআন আল্লাহর নবির শ্রেষ্ঠ মুজিযা। এটি তাঁর নুবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ। কিন্তু তা কীভাবে—এটি তার বোধগম্য হয় না।
এই বইতে কুরআনের সৌন্দর্যের খণ্ড খণ্ড চিত্তাকর্ষক চিত্রগুলোকে সরলভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি বইটি একজন বাংলাভাষী পাঠকের কাছে কুরআনকে আরও জীবন্ত, জীবনঘনিষ্ঠ ও মাধুর্যময় করে তুলতে সহায়তা করবে ইনশাআল্লাহ।
আবদুল্লাহ আল মাসউদ
সন্দীপন প্রকাশন লিমিটেড
মক্কার কাফিররা চক্রান্ত করেছিল। কাউকে নবিজির কাছে আসতে দিত না, তাঁর কথা কাউকে শুনতে দিত না, তাঁর নামে প্রোপাগান্ডা ছড়াত। জাদুকর, পাগল, জিনে ধরা, আরও বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে মানুষকে তাঁর কাছে ভিড়তে দিত না। কিন্তু এগুলোই তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে ধরা দিত। কাফিরদের এসব প্রোপাগান্ডা শুনে কিছু মানুষ নবিজির কথা শোনার জন্য উলটো আগ্রহী হয়ে উঠত। আর নবিজির মুখ থেকে কুরআনের বাণী শুনে তৎক্ষণাৎ ঈমানের ঘোষণা দিয়ে দিত। যুগে যুগে ইবলিসের দোসররা সত্যের দীপ্ত শিখা নিভিয়ে দেবার জন্য চেষ্টার কমতি করেনি। পূর্বসূরিদের মতো বর্তমানের অন্ধকারের পথযাত্রীরাও পিছিয়ে নেই তাতে। মুসলিম জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দেউলিয়া করে সত্যের আলো নিভিয়ে দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছে তারাও। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মনে গেঁথে দিচ্ছে তাদের ইসলামবিদ্বেষের বিষবাষ্প। আল্লাহ তাআলা এই সাহিত্যকেই তাদের জন্য বুমেরাং করে দিলেন। এক ঝাঁক তরুণ প্রাণ সাহিত্যের মাধ্যমেই সত্যের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে শুরু করল। সত্যের দীপ্ত শিখা জ্বালাবার শপথ নিয়ে সেই কাফেলায় যুক্ত হলো সন্দীপন। আত্ম—উন্নয়নমূলক, অনুপ্রেরণামূলক, ইতিহাস ও সংশয় নিরসন ইত্যাদি সামসময়িক বিভিন্ন টপিকসহ আমরা কাজ করে যাচ্ছি কুরআন, হাদীস, তাফসির ও সালাফদের বিভিন্ন খিদমত বাংলাভাষী মুসলিমদের হাতে পৌঁছে দিতে। পরিবার ও সন্তান প্রতিপালন সম্পর্কিত জীবনঘনিষ্ঠ বই নিয়েও কাজ করে যাচ্ছি আমরা। শিশুতোষ সাহিত্য নিয়ে সন্দীপনের রয়েছে অনন্য পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা। বাংলাভাষী মুসলিমদের কল্যাণে সন্দীপন প্রকাশন—এর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। প্রিয় পাঠক, সত্যের দীপ্ত শিখা জ্বালাবার এই সফরে স্বাগত আপনাকেও। সন্দীপনের সাথেই থাকুন