20% ছাড়
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد.
রমণীদের মধ্যে সুন্দরী রমণীর অভাব নেই। কিন্তু 'আদর্শ রমণী'র বড় অভাব।
যাঁরা আদর্শ মানুষ অথবা আদর্শকে ভালবাসেন এমন মানুষ সেই রমণীর অনুসন্ধান ক'রে থাকেন বিবাহের পূর্বে। অনেকে সে মর্মে কিছু লেখার পরামর্শ দেন। সেই ভাইদের আশা মতো তেমনই রমণী গড়ার প্রচেষ্টায় আমার এবারের প্রয়াস। আল্লাহ যেন তা কবুল করেন।
আমি এ পুস্তিকায় সরাসরি আমার দ্বীনী বোনকে সম্বোধন করেছি। তার প্রকৃতি ও মনের পরশ পেতে যথা সম্ভব গান, কবিতা ও হেঁয়ালি দিয়ে কথার মালা গেঁথেছি। আশা করি, সেই ফুলের মালা তার গলায় শোভা পাবে।
স্বামীগৃহ ও সংসারের কিছু খুঁটিনাটি ছোট ছোট কথা লিখেছি, আশা করি, তা তার দাম্পত্য জীবনের সহায়ক হবে। এই পুস্তিকা পড়ে নিজেকে 'আদর্শ তরুণী, আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ মা ও আদর্শ শাশুড়ী' হিসাবে নিজেকে গড়তে প্রয়াস পাবে। আর তাওফীক আল্লাহর হাতে।
আমি যে আবেগ নিয়ে লিখেছি, সেই আবেগ নিয়ে পড়তে আমার বোনটিকে আবেদন জানাচ্ছি। হয়তোবা এত সব কথা মানতে তোমাকে ভারী বোধ হবে, কিন্তু 'আদর্শ রমণী' হতে হলে কিছু ত্যাগ স্বীকার তো করতেই হবে।
'বড় হওয়া সংসারেতে কঠিন ব্যাপার, সংসারে সে বড় হয়, বড় গুণ যার।'
বইটি পড়ে তুমি মনে করতে পারো যে, 'নারীকে কেবল পুরুষের সুখ-দানকারিণীর ভূমিকায় রাখা হয়েছে।' আমি বলি, সেটা হলেই বা ক্ষতি কী? স্বামীকে কি স্ত্রীর সুখদানকারী রূপে সৃষ্টি করা হয়নি? নারী-পুরুষ একে অপরের সুখদানকারী না হলে দাম্পত্যে সুখ কোথায়?
তুমি মনে করতে পার, 'বইটিতে নারীকে অনেক ক্ষেত্রে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।' আমি বলি, হ্যাঁ, তা অবশ্যই। তবে তা বিশেষ শ্রেণীর বিশেষ স্বভাবের নারীকে।
উদ্দেশ্য হেয় বা তুচ্ছ করা নয়; বরং স্বর্ণকারের মতো আঘাত দিয়ে তাদের মতো স্বর্ণকে সুন্দর অলঙ্কার রূপে গড়ে তোলা।
ইসলাম পুরুষের তুলনায় নারীকে তিনগুণ মর্যাদা দিয়ে ধন্য করেছে। নারীকে তার যথার্থ মর্যাদা ও অধিকার প্রদান করেছে। কিন্তু নারীকে পুরুষের সমান মর্যাদা দেয়নি, নারীর উপর পর্দা ফরয করেছে, তার উপর স্বামীকে 'স্বামী' ও কর্তা বানিয়েছে, চরম প্রয়োজনে তাকে মারার অনুমতি দিয়েছে, নারীর উপর তার স্বামীর খিদমত ওয়াজিব করেছে, তাতে যদি কোন স্বাধীন-চিত্তের আধুনিকা ভুল বুঝে মনে করে যে, নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে, তাহলে আমার আর কী বলার আছে?
তুমিও কবির সুরে সুর মিলিয়ে আমাকে গালি দিয়ে বলতে পার,
'হাদিস কুরআন ফেকাহ লয়ে যারা করিছে ব্যবসাদারী, মানে নাক' তারা কুরআনের বাণী- সমান নর ও নারী! শাস্ত্র ছাঁকিয়া নিজেদের যত সুবিধা বাছাই ক'রে, নারীদের বেলা গুম্ হ'য়ে রয় গুমরাহ্ যত চোরে!'
তুমি বলতে পার, 'সবই মেয়েদের দোষ। পুরুষদের কিছু কি নেই?' আমি বলি, অবশ্যই আছে, ঢের আছে। কেবল পুরুষদের সুবিধার জন্য এ বই কুরআন-হাদীস ঘেঁটে লিখা হয়নি। নারীর অধিকার ও পুরুষদের কর্তব্য নিয়ে এ বইয়ের আলোচনা নয়। এ বই পুরুষ বা মহিলার মর্যাদা ছোট বা বড় ক'রে দেখাবার উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি। এ বই লিখা হয়েছে, রমণীকে 'আদর্শ রমণী' ক'রে গড়ে তোলার জন্য। ঈমানী মন নিয়ে পড়, তাহলেই বুঝতে পারবে 'গুমরাহ ও চোর' কে বা কারা?
এসো, পড় ও বড় হও, আল্লাহর কাছে, মানুষের কাছে। তোমার মত 'আদর্শ স্ত্রী' পেয়ে ধন্য হোক ভাগ্যবানেরা। জান্নাত হোক তাদের সংসার। আমি তোমাকে এই স্নেহের উপহার দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার জন্য দু'আ করো বোনটি!
এখনো কোনো রিভিউ নেই। প্রথম রিভিউ দিন!