সুখ প্রত্যেক মানুষের কাম্য বিষয়। সবাই চায় সুখের পরশে দিনাতিপাত করতে। সুখের সন্ধানে ছুটোছুটি করে দিগ্বিবিদিক। সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা টুকু এর জন্যই ব্যয় করে। চায়,তার থাকবে একটি সুখের নীড়,থাকবে সুখে ভরা সংসার। সুখ তালাশের ব্যাপারটিতে সবাই এক হলেও সুখ অনুসন্ধিৎসু মানুষদের পথ-পরিক্রমা কিন্তু অভিন্ন নয়। মানুষ বিভিন্ন পথে বিভিন্নভাবে সুখের স্বাদ পেতে চায়। কিন্তু দিন শেষে সবাই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না। প্রকৃত প্রস্তাবে সুখ কাকে বলে,সংসারের সুখ আসবে কোন পথে,সংসার সুখী হবে কিসের গুনে ইত্যকার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা নিয়েই আল্লামা সুলাইমান আর-রুহাইলি কৃত অনুপম রচনা ‘সংসার-সুখের সন্ধানে।’ সংক্ষিপ্ত কলেবরে কুরআন-সুন্নাহ থেকে অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা ঠাঁই পেয়েছে এতে। পরিবারে সুখ নিয়ে আসার প্রধান উপায়-উপকরণগুলো উপস্থাপিত সহজবদ্ধ ভাষায়।
ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী
ড. সুলাইমান বিন সালীমুল্লাহ আর-রুহাইলী ১৯৬৬ সালে মদীনায় জন্মগ্রহণকারী বর্তমান বিশ্বের একজন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সুন্নি আলেম, ইসলামী আইনবিদ (ফকীহ) এবং মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি পবিত্র মসজিদে নববীর সম্মানিত শিক্ষক এবং ঐতিহ্যবাহী মসজিদে ক্বোবার প্রধান ইমাম ও খতীব হিসেবে দ্বীনি দায়িত্ব পালন করছেন। ফিকহ, উসুলুল ফিকহ এবং আক্বীদা বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী এই স্কলারের বিশ্বব্যাপী বহু গবেষণামূলক বই ও লেকচার রয়েছে, 'ফিকহুল ফিতান' এবং 'সংসার-সুখের সন্ধানে' সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই বাংলায় অনূদিত হয়ে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে।
ড. যায়নুল আবেদীন বিন নুমান মাদানী
চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর থানার চর আলাতুলীর কোদালকাটি গ্রামে ১৯৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা নোমান আলী মেম্বার ও মাতা শামসুন নাহার (আল্লাহ তাঁদের মাফ করুন)। তিনি আট ভাই-বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
প্রাথমিক আরবি শিক্ষা গ্রামের মক্তবে শুরু হয়। ২০০১ সালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জে চলে আসেন এবং বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা শেষে ২০১১ সালে দাওরায়ে হাদীসে প্রথম স্থান অর্জন করেন। সমান্তরালে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং বৃত্তি পান।
২০১১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৫ সালে অনার্সে তৃতীয় স্থান এবং ২০১৬ সালে মাস্টার্সে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে এম.ফিল সম্পন্ন করে ২০২২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। বর্তমানে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুল হাদীস বিভাগে অধ্যয়নরত।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ২০১৪ সালে মাদরাসা ইশাআতুল ইসলাম আস-সালাফিয়্যাহতে শিক্ষকতা শুরু করেন। ছোটবেলা থেকেই জুমুআ খুতবা ও দাওয়াহ কাজে যুক্ত। তিনি ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরি, রাজশাহীর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং একাধিক গ্রন্থ সংকলন, অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন।
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ মৃধা বাংলাদেশের একজন পরিচিত ইসলামি লেখক, অনুবাদক ও গবেষক, যিনি মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশুদ্ধ আকিদা ও মানহাজ বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে তুলে ধরার জন্য সমাদৃত। তিনি সালাফদের রচিত ধ্রুপদী ইসলামি গ্রন্থগুলো, বিশেষ করে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু বাকর আল-হুমাইদির "উসুলুস সুন্নাহ"-এর মতো বই অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় অনুবাদ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর কাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—আকিদার মতো জটিল ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলোকে কুরআন, সুন্নাহ এবং পূর্ববর্তী ইমামদের অকাট্য দলিলের সাহায্যে সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা। বর্তমান সময়ের নানা ধর্মীয় বিভ্রান্তি থেকে মানুষকে সতর্ক রাখতে এবং বিশুদ্ধ ইসলামি বিশ্বাসের শেকড় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানে তাঁর এই গবেষণামূলক ও অনুবাদমূলক কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী বর্তমানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং নির্ভরযোগ্য প্রকাশনার জগতে একটি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ২০১২ সাল থেকে একদল নিষ্ঠাবান দ্বীনপ্রেমী ব্যক্তির নিরলস ত্যাগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টা। প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল ওয়াহীদ বিন ইউনুস-এর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত কুরআন, হাদীস, সীরাত, আকীদা এবং ইসলামি জীবনদর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রামাণ্য গ্রন্থ প্রকাশ ও সংরক্ষণে নিয়োজিত। আমাদের রয়েছে স্বতন্ত্র গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার সমন্বয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আমাদের সমৃদ্ধ বিক্রয় বিভাগে সালাফি মানহাজভিত্তিক সহীহ আকীদা-নির্ভর গ্রন্থাবলি এবং কওমী মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত মূল আরবি ইসলামি কিতাবসমূহের এক বিশাল ও নির্ভরযোগ্য সংগ্রহ রয়েছে, যা পাঠকদের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে এবং জীবনকে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আলোকিত করতে নিরন্তর সহায়তা করে যাচ্ছে। বর্তমানে ওয়াহীদিয়া ইসলামিয়া লাইব্রেরী এর ৩ টি অফলাইন শাখা রয়েছে যার প্রধান শাখা রাজশাহীর প্রানকেন্দ্র রানীবাজার ও ২য় শাখা সাহেববাজারে অবস্থিত ও ৩য় শাখা রাজধানী ঢাকা সদরের বইয়ের রাজধানী বাংলাবাজারে অবস্থিত।